প্রতিষ্ঠাতার পরিচয়
সমাজের অগ্রগতি
শিক্ষার দ্বারা, শিক্ষার অভাবে সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত, শিক্ষাই মানবজীবনের
দীপশিখা, শিক্ষাই জাতির প্রাণপ্রদীপ। অতএব যে সকল মহৎ লোক ত্যাগব্রত গ্রহণ করিয়া
স্বীয় জীবন সমাজের কল্যাণে উৎসর্গ করিয়াছেন, তাঁহারা সমাজের অম্লান গৌরব ও
ইতিহাসের অক্ষয় দীপস্তম্ভ। এমত একজন মহীয়সী পুরুষ ছিলেন মুনশি সফিয়ল আলম, যাঁর স্নেহনাম "সজিল
মুন্সী"।
খ্রিস্টীয় ঊনিশ
শতকের দ্বিতীয় দশকে (১৯২০ খ্রিস্টাব্দে) বঙ্গোপসাগর বিধৌত হাতিয়া দ্বীপের চরচইশ্বর
ইউনিয়নের পাঁচবিঘা নামক প্রত্যন্ত গ্রামে তিনি আবির্ভূত হইলেন। পিতৃহৃদয়ে
কৃষিকর্মে নিবদ্ধ আলী মিঞা মুনশি তাঁহার জনক; জননীর স্নেহকোলে শৈশবকাল অতিক্রান্ত
হইল। বাল্যকালেই জ্ঞান অন্বেষণের নিমিত্ত বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে তিনি যাত্রা করিলেন
স্বদ্বীপে, সেখানে বঙ্গজনের নিকট অতি পরিচিত ও ইসলামী শিক্ষার সুখ্যাত বিদ্যাপীঠ
বশিরিয়া আহমদিয়া আলহাজ্জ আবু বকর ছিদ্দিক
ফাজিল মাদ্রাসায় পাঞ্জাম পর্যন্ত পড়া-লেখা করিলেন; তথাপি ভাগ্যের অনিবার্য টানে
পুনরায় মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করিতে হইল।
স্বীয়
জন্মভূমিতে ফিরিয়া তিনি সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করিলেন। মানবপ্রেমই তাঁহার ধ্রুবনক্ষত্র,
সমাজকল্যাণই তাঁহার জীবনমন্ত্র, শিক্ষার দীপ প্রজ্জ্বলনই তাঁহার ব্রত। তাঁহার
হৃদয়ে লালিত স্বপ্ন তাঁহাকে পরিচয় করিয়া দেয় তৎকালীন চরঈশ্বর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট
খাঁন সাহেব ছৈয়দ আহাম্মদের সাথে। পরিচয়ের সূত্রধরে তাঁহার মেধা ও প্রজ্ঞা জনাব
খানকে বশিভূত করে। ষাটের দশকে মুনশি সফিয়ল আলমকে নমিনেটেড মেম্বার হিসেবে নিযুক্ত
করা হইলো।
খাঁন সাহেব
ছৈয়দ আহাম্মদ এর বিয়োগান্তে তাঁহারই সুপুত্র মাছউদল হক খাঁন খোকা মিঞা পরবর্তী ত্রিদশক
চরঈশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর পদ অলঙ্কৃত করিলেন। শিক্ষার বিস্তার ও সমাজসেবায়
স্বীয় অবদান হেতু মুনশি সফিয়ল আলম তিন তিনবার মেম্বার পদে নির্বাচিত হয়ে হাতিয়ার
দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত জনগণের দুর্দশাগ্রস্ত মানবের দুঃখমোচনে, অনগ্রসর জাতির
শিক্ষা বিস্তারে ও নৈতিক উন্নতিতে আত্মনিয়োগ করিয়াছেন।
শিক্ষা
বিস্তরণে তাঁহার মহৎ প্রচেষ্টারই ফসল – ওছখালী খাঁন সাহেব ছৈয়দিয়া সরকারি উচ্চ
বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠান কেবল একটি বিদ্যাপীঠ নহে, ইহা সমগ্র অঞ্চলের অন্ধকার হরিবার
প্রদীপ। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন হইতে সেক্রেটারি, সভাপতি প্রভৃতি গুরুদায়িত্ব
তিনি পালন করিলেন। হাতিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁহার দান, ত্যাগ ও
শ্রম অমোঘ প্রমাণ স্বরূপ।
তাঁহার অদম্য
প্রচেষ্টা ও অবিচল সাধনার ফলে ১৯8৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি – স্বীকৃতি লাভ করিয়া এ
অঞ্চলের শিক্ষাঙ্গনে এক নবদিগন্ত উন্মোচন করিল। ইহা প্রতিষ্ঠাতা মুনশি সফিয়ল আলম
এর অনন্য কৃতিত্ব, যাহা তাহাকে চিরস্মরণীয় করিয়া রাখিবে।